এই গল্পটি আমার এক বান্ধবীর। নাম সোহিনী। রাজীবপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী।পড়াশোনাতেও ভালো। ছেলেদের সাথে তার তেমন মেলামেশা ছিল না।
যখন সোহিনী দ্বাদশ শ্রেণিতে তখন এক টিউশনে রাজীব এর সাথে তার আলাপ।
রাজীব ছেলেটিও দেখতে শুনতে ভালো, পড়াশোনা খুব ভালোনা হলেও মোটামুটি। সেখান থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব, তারপর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা।
ভালোবাসা না ভালোলাগা তা ঠিক জানিনা। কারণ ভালোবাসাটা হলেও বিয়েটা আর হয়ে ওঠেনি। প্রায় এক দুই বছর সব ঠিকঠাকই ছিল, একদিন রাজীব হঠাৎ সোহিনীকে বলে সে সম্পর্কটা রাখতে চায়না ।এদিকে সোহিনী বাড়িতে তার মাকে ব্যাপারটা জানিয়েছে, প্রথমে না মানলেও মেয়ের কথা ভেবে সবটা মেনে নেয় ওর বাবা মা।
এখন সে বাড়িতে কি বলবে. . ! বুঝে পায়না সে। এর কারণ জানতে চাইলে রাজীব জানায় সে নাকি অন্য কাওকে ভালোবাসে সোহিনীকে নাকি আর তার ভালোলাগেনা।
সোহিনী অনেক বোঝাবার চেষ্টা করে সে রাজীবকে কতোটা ভালোবাসে,তাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। কিন্তু কিছুই না শুনে চলে যায় রাজীব।সোহিনী বার বার ফোন করে তার উত্তর না পেয়ে, ও যখন রাজীব যে বাড়িতে ভাড়া থাকতো, সেখানে যায়, সেখানে গিয়ে সোহিনী জানতে পারে, রাজীব নাকি এক সপ্তাহ আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, এদিকে সোহিনীকে এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি রাজীব।
কিছুদিন পর সে জানতে পারে রাজীব নাকি অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করেছে, সুন্দরী বড়লোক ঘরের। তারপর আর কিছু জানতে চায়নি সোহিনী। তার মা কে সবটা জানালে সবাই তাকেই দোষারোপ করতে থাকে।
বাড়ির চাপ, মানসিক চাপ- কি করবে ভেবে পায়না সোহিনী।
একদিন কাওকে কিছু না বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পরে সোহিনী, ঠিক করে যে, ও আত্মহত্যা করবে, এসব ভেবে এক নদীতে ঝাঁপ দিতে যাবে এমন সময় তার হাতটা টেনে ধরে একজন ব্যক্তি।
“এটা কি করতে যাচ্ছিলেন আপনি? ? এতো সহজে মরে যাওয়া যায়, কেন বাঁচতে ইচ্ছে করে না!” ওই ব্যক্তি বলে।
“না করে না, যার বাঁচার কোন কারণ নেই তার মরতে চাওয়াই স্বাভাবিক” সোহিনী বলে। “আপনি জানেন কি, আপনি যেটুকু কষ্ট পেয়ে মরতে যাচ্ছিলেন তার থেকে হাজার হাজার বেশি কষ্ট পেয়েও মানুষ বেঁচে থাকে, মানুষ স্বপ্ন দেখে।
ভেবেছেন কখনো রাস্তার ধারে ভিক্ষে করা ওই অন্ধ ছেলেটির কথা কিংবা না খেতে পাওয়া রাস্তার পথ শিশুগুলোর কথা কিংবা কোনো পাগল লোকের কথা যার কপালে হয়তো জোটে শুধু অবহেলা।
তাদের কথা ভেবেছেন কি কখনো?
তাদের চেয়ে কি আপনার কষ্ট বেশি? একদমই না।
নীরব হয়ে সবটা শুনতে থাকে সোহিনী। না এর আগে তো সে কোনদিন এরকম ভাবেনি, “সত্যি তো আমার থেকে তাদের কষ্ট অনেক গুন বেশি”, মনে মনে ভাবতে থাকে সে. . . . ।
“শুধু নিজের কথা ভেবে নিজের কষ্টের কথা ভেবে মরতে চাইছিলেন, কখনো অন্য মানুষের কথাও ভেবে দেখবেন, দেখবেন তারা হয়তো আপনার চেয়ে অনেক কষ্টে আছে, অনেক দুখী, আর যদি কিছু করতেই হয় এসব মানুষের জন্য করুন. . দেখবেন এদের খুশিই আপনার খুশি হয়ে উঠবে” এই বলে চলে যায় লোকটি।
সোহিনী নির্বাক হয়ে সবটা শুনেছিল সেদিন, আর কিছু বলা হয়ে ওঠেনি লোকটিকে।সোহিনী সেদিন বাড়ি ফিরে নিজের কথা ভেবে, বাবা মার কথা ভেবে, সেই লোকগুলোর কথা ভেবে,
সবকিছু ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়, সে বছর পরীক্ষা দিয়ে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পায় সোহিনী।
বছর দশেক পর. . . .
সোহিনী এখন বড় ডাক্তার, গরীব শিশু বা গরীব লোকেরা প্রায়ই তার কাছে আসে,বিনামূল্যে এদেরকে সেবা করে সোহিনী। বাচ্চারা তাকে ডাক্তার দিদি বলেও ডাকে। তবে এখনো বিয়ে করেনি সে,এই দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান কাজ।
সোহিনীর মাঝে মাঝেই সেই অপরিচিত ব্যক্তির কথা মনে পড়ে, যে তাকে বাঁচার অনেকগুলো কারণ শিখিয়ে ছিল, ভগবানের মতো এসে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিল।
আমার সাথে দেখা হলেও সোহিনী জিজ্ঞেস করে সেই লোকটির কথা,
“ওনার সাথে দেখা হলে আমায় একবার জানাস, ওনাকে ধন্যবাদ দেওয়াটা বাকি ! ! “
লেখক- সুমিত গুহ
উপসংহার-
আশা করছি আপনাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট ই ভালো লেগেছে। কেমন লাগলো আজকের গল্পটি।
যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে তবে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আর এরকমই আরো গল্প পেতে বা আপনার নিজের গল্প এখানে পোস্ট করতে আমাদের মেইল করুন ঠিকানায়।