Lyrics

Free Songs Lyrics Download

Lyrics

Free Songs Lyrics Download

Nirob- Bengali Story ( একটি বাংলা গল্প)

Bangla golpo, bangla koster golpo, bengali sad story, bangla story, valobashar golpo, sad story in bengali

এটি আমাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট।

আপনি কি এই ধরণের গল্পগুলি খুঁজছেন যেমন- bangla golpo, bangla sad story, bangla dhukhkher golpo, bangla real story, bangla koster golpo, notun bangla golpo, story in bengali তাহলে আপনি সঠিক সাইটে এসেছেন।

এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের বাংলা গল্প শেয়ার করব। আমরা বাঙালিরা প্রায় সবাই গল্প পড়তে পছন্দ করি।

ব্যোমকেশ রহস্য-রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে ভালবাসার গল্প দুঃখের গল্প সব রকম গল্প আমরা পড়তে পছন্দ করি।

তাই ওয়েবসাইটে আমরা আপনাদের কাছে নানা ধরনের Golpo এর সম্ভার তুলে ধরবো আর সব গুলি হবে বাংলায়।

আজকে যে গল্পটি আমরা আলোচনা করব সেটি হল একটি ভালবাসার গল্প নীরবকে কেন্দ্র করে। Bangla এই golpo টি পড়ে দেখুন আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।

নিজের মাতৃভাষা বাংলায় যদি আপনি ভালো ভালো Bangla Golpo পড়তে চান তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে থাকুন। আমাদের এই ওয়েবসাইটে আমরা ভবিষ্যতে আরও বাংলা কবিতা বিভিন্ন লেখা এবং নানা ধরনের অন্যান্য বাংলায় কোয়েটস গুলি আলোচনা করব।

এই ওয়েবসাইটে আপনি যাতে বাংলা ভাষায় ভালো ভালো কোয়েটস, স্ট্যাটাস, গল্প-কবিতা যাতে পান সেটি আমাদের প্রচেষ্টা।

চাইলে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন, এর জন্য আপনাকে মেইল এড্রেসে যোগাযোগ করতে হবে। আজকে আমরা একটি ভালবাসার গল্প নিয়ে আলোচনা করব তাহলে শুরু করা যাক।

আজকের গল্প- নীরব
কলে কাঁদছে আজ। নীরবের বাড়িতে যেন অন্ধকার ছেয়ে গেছে, তার বাবা মা হয়তো আজ নিজেদেরই দোষী ভাবছে এই পরিস্থিতির জন্য। তার বোন দিয়ার চোখ থেকেও অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে।
কেন এই অন্ধকার? কেন কাঁদছে সবাই? কেইবা এই নীরব?
আজ থেকে কয়েক বছর আগের কথা..নীরব তার বোন দিয়া, আর মা বাবা এই ছোট্ট পরিবার। নীরব শান্ত প্রকৃতির ছেলে, পড়াশোনাতেও ভালো। এই ছোট্ট পরিবারকে নিয়েই ভালোই কাটছিলো দিনগুলি।
নীরবের বাবা খুবই সাধারণ,ছোটখাটো একটা মুদি দোকান আছে। মা ঘরে থাকেন ছোটখাটো কাজ করেন ঘরে বসেই। নীরব যখন ছোট তখন থেকেই সে তার বাবা মার খুব প্রিয়,তার বোন দিয়া তাকে দাদাভাই বলে ডাকতো.. সবাই বলতো নীরব এর হাসিটা নাকি সবচাইতে সেরা।
নীরব যখন নবম শ্রেণীতে তখন তার বোন দিয়া পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো। মা টিফিন বানিয়ে দিত আর দুই ভাইবোন একসাথে স্কুলে যেত। ছোটবেলা থেকে হাজার মারমিট ঝগড়া করলেও দিয়াকে ছাড়া চলেনা তার।
বোনকে রাগানোর জন্য মার কাছে মারও খেয়েছে অনেকবার। বোনকে খুব ভালোবাসে নীরব। তারা দুজনেই বড় হয়, বোন মাধ্যমিক পাশ করে,উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নীরব।
এইভাবেই কিছুদিন চলতে থাকে।সময় চলতে থাকে, এখনোও কিছু চাকরি জোগাড় করতে পারেনি সে।কেমন যেন সবাই বদলাতে থাকে।
ঘরে থাকলেই মায়ের একটা কথাই তার শুনতে হয়, কি রে আর কতোদিন বাবার টাকা ধ্বংস করবি? যা কাজবাজ কর কিছু.. আরও দু,তিন বছর এভাবে কেটে যায়..
 হ্যাঁ এই অভাবের সংসারে এতো বড় ছেলে হয়ে বসে বসে খাওয়াটা খারাপ দেখায়, নীরব মনে মনে ভাবে।তার বাড়িতে থাকতে ভালো লাগেনা, সে আগে নেশা করতো না,তবে এখন রোজ নেশা করে.. হয়তো হতাশার কারণে।
সেদিন বোনকে একটা ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছিল নীরব.. তখনই..” তোর কি? তুই নিজে আগে কাজ জোগাড় কর.. আমার ব্যাপার আমি বুঝবো.. ” দিয়া বলে.. খুব কষ্ট পায় নীরব, হয়তো রাগের মাথায় বোন এসব বলেছে.. এই বলে নিজেকে শান্ত্বনা দেয় নীরব।
এখন সে কি করবে বুঝে পাচ্ছিল না,চরম হতাশা,ব্যার্থতা তাকে গ্রাস করেছিল। এখন টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া খুব কঠিন, সামান্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কি করে সে চাকরি পাবে?
তবু একটু হলেও তার মনে আশা ছিল, তবে আজ আশাটাও বোধ হয় হারিয়ে গেল.. মিষ্টি, যাকে ভালোবাসতো নীরব। প্রায় চার বছরের সম্পর্ক তাদের।
সেও নীরবকে ভুল বোঝে.. “তুমি কোনো চাকরি করোনা আমায় কি খাওয়াবে? আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, ছেলেটা মিলিটারি চাকরি করে, তার সাথেই আমার বিয়ে হবে.. আমাকে ভুলে যাও” এই বলে চলে যায় মিষ্টি.. তার দিকে নির্বাক হয়ে একদৃষ্টে চেয়ে থাকে নীরব.. কিইবা বলবে নীরব.. মিষ্টি তো কিছু ভুল বলে নি..!!
আজ জ্যোৎস্নার রাত.. মিষ্টি ব্যালকনিতে বসে ওই আকাশের দিকে চেয়ে আনমনে কি যেন ভাবতে থাকে.. হয়তো নীরবের কথায় ভাবছে সে.. ভুলে গেছি মুখে বললেও হয়তো সে ভুলতে পারেনি নীরবকে.. নীরব প্রায়ই বলতো ওই আকাশের চাঁদ একদিন তোমায় এনে দেব দেখে নিও.. মিষ্টি তখন হেসে উঠতো।
চাঁদ কখনো সত্যি সত্যি আনা যায় নাকি.. মিষ্টি বলতো.. এমন সময়.. হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে.. ফোনটা কানে নিতেই চমকে ওঠে মিষ্টি, কান থেকে ফোনটা পড়ে যায়.. আজ একটা বাচ্চাকে বাঁচাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট হয় নীরবের.. একটা গাড়ি ধাক্কা মারে নীরবকে.. জায়গায় মারা যায় নীরব.. খবরটা পেয়ে এক দৌড়ে সে ছুটে যায় নীরবের বাড়ি।নীরবের ঘরের দরজার সামনে এসে থমকে যায় মিষ্টি।
সাদা কাপড়ে সামনে শুয়ে আছে নীরবের লাশ.. তাকে ঘিরে কাঁদছে তার মা,বাবা, বোন। মিষ্টির বুক আজ কষ্টে ফেটে যাচ্ছে.. আজ বুঝতে পারছে সে নীরবকে কতোটা ভালোবাসে..!!
কিন্তু সেই নীরব যে আজ সত্যিই নীরব হয়ে গেছে.. তার সাথে সাথেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তার স্বপ্নগুলো..
নীরব তার মাকে বলেছিল.. “তুমি দেখো মা.. আমি একদিন একটা চাকরি পাবো.. তোমার আর বাবার আর কোনো কষ্ট করতে হবে না, আমি একটা বাড়ি বানাবো, সেখানে আমি তুমি বোন সবাই একসাথে থাকবো.. আর আমার বোন দিয়ার ভালো জায়গায় বিয়ে হবে ধুমধাম করে..
“নীরব তো মিষ্টিকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিল..!! সেটাওতো অপূর্ণই রয়ে গেল… কয়েক বছর পর… মিষ্টি আজও ওই আকাশের দিকে চেয়ে থাকে ভাবে ওই চাঁদটাই বোধহয় তার সেই নীরব।
মিষ্টি ভাবে.. চাঁদটা যেন অনেকটাই কাছে চলে এসেছে.. আবার এসব ভাবতে ভাবতে নিজেই হেসে ওঠে..মিষ্টি আর বিয়ে করেনি। মিষ্টি এখন দিয়ার সাথে নীরবদের বাড়িতেই থাকে, নীরবের বাবা মা মিষ্টি কে নিজের মেয়ের মতোই দেখাশোনা করে..
মিষ্টি ভাবে হয়তো কোনো এক রাতে চাঁদটা সত্যিই তার কাছে চলে আসবে.. মিষ্টি চাঁদটিকে যখন স্পর্শ করবে তখন হয়তো চেনা গলায় কেও বলে উঠবে .. “মিষ্টি! তোমায় বলেছিলাম না, ঠিক একদিন চাঁদকে তোমার কাছে এনে দেব…
লেখক- সুমিত গুহ

উপসংহার-

আশা করছি আপনাদের Bangla Golpo সেগমেন্ট ই ভালো লেগেছে। কেমন লাগলো আজকের গল্পটি।

যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে তবে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে জানান আর এরকমই আরো গল্প পেতে বা আপনার নিজের গল্প এখানে পোস্ট করতে আমাদের মেইল করুন ঠিকানায়।

Nirob- Bengali Story ( একটি বাংলা গল্প)

Leave a Reply

Scroll to top